আমাদের পরিচয়

ডাঃ শবনম রহমান, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এমফিল প্রশিক্ষিত সংস্কারিক /পুনর্বাসন মনোবিজ্ঞানী। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পর, তিনি সেকেন্দ্রাবাদের ন্যাশনাল ইন্সিটিউট ফর এমপাওয়ারমেন্ট অব পার্সন উইথ ইন্টেলেকচুয়াল ডিসএবিলিটি থেকে পুনর্বাসন মনোবিজ্ঞানে এমফিল সম্পন্ন করেছেন এবং তার অসামান্য একাডেমিক পারফরম্যান্সের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছেন। শবনম স্পেশাল এডুকেশনে বিএড করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে; তাঁর ন্যারেটিভ চর্চার শিক্ষা উমিদ চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, মুম্বাই থেকে ও সোশ্যাল রোল ভালোরাইজেসন এর প্রশিক্ষণ ভারতের কিস্টোন ইনস্টিটিউট থেকে।
শবনম গত 11 বছর ধরে ক্রিস্টাল মাইন্ডসে একজন পরামর্শদাতা পুনর্বাসন মনোবিজ্ঞানী এবং বিশেষ শিক্ষাবিদ। সবসময়ই তার একটু অন্যরকমভাবে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল আর খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরেছিলেন যে নানারকম অক্ষমতার সম্মুখীন হওয়া শিশু এবং যুবকদের বিকাশের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, তাঁদের পরিচর্যাকারী মানুষজন ও পরিবারের সাথে এইরকম সমস্যা, তাঁদের মানসিক সমস্যা এবং স্কুল সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি বিবিধ বিষয় নিয়ে কাজ করেন। এছাড়া একজন সাংকেতিক-ভাষা-শিক্ষাবিদ হিসেবে বধির সম্প্রদায়ের সাথেও কাজ করেন। শবনম শিশুদের এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে ভালবাসেন, বিশ্বাস করেন শিশুরাই আশার প্রতীক। তিনি সহায়তা গোষ্ঠী এবং গ্রুপ থেরাপি সেশনের পাশাপাশি নিউরোডাইভার্স সম্প্রদায় এবং তাদের পরিবারের জন্য কর্মশালা পরিচালনার কাজও করেন।
কভিডের সময় শবনম তরুণ ব্যক্তিদের জন্য একটি অনলাইন স্ব-সহায়তা গোষ্ঠী পরিচালনা করছেন। এই গ্রুপ তৈরির প্রেরণা ন্যারেটিভ বা বর্ণনামূলক চর্চা । প্রকল্পটি অস্ট্রেলিয়ার ডুলউইচ সেন্টার অফ ন্যারেটিভ প্র্যাকটিস থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে । শবনম ইউজিসি পরিচালিত বিভিন্ন জাতীয় সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁর লিখিত পেপার এবং পোস্টার উপস্থাপন এর মাধ্যমে।
শবনম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত মনোবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে সমস্যার মূল আমাদের দেহ বা পরিচয়ে নয় সমাজের নিপীড়ক কাঠামোগত ব্যবস্থায় মধ্যে নিহিত। আঁকা, হাতের কাজ, রঙ- তুলি, পারিবারিক অ্যালবাম, বাচ্ছাদের গল্পের বই, কবিতা এবং নির্ভেজাল ‘মজা’র মুহূর্ত সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়; মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এর পরিসর তৈরি করে আর তিনি তখন তাঁর পছন্দের গল্পের খোঁজ পান। তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে তথাকথিত অবমূল্যায়িত মানুষজনের জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে মাহেন্দ্রক্ষণের আনুভুতি, তাঁদের অন্যরকম মূল্যবান দক্ষতা আর জ্ঞান যা তাঁদের জীবনকে করে তুলতে পারে সামাজিক ভাবে অর্থপূর্ণ ।
