
বিগত ১২ বছর ধরে ডাঃ অর্পিতা দে মানসিক স্বাস্থ্যের আঙিনায় কনসালটেন্ট সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ করে চলেছেন। ন্যারেটিভ চর্চার আলোয় ঋদ্ধ হয়েছেন ৭ বছর। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের পরিসরে নানারকম গবেষনামূলক কাজের সাথে জড়িত। তিনি ১৯৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে তার এম.এস.সি. সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের পেশার দিক থেকে অর্পিতার অভিজ্ঞতা বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে রয়েছে কলেজে অর্থনীতি শেখানো, এপিটোম নামক সংস্থার অধিকারী হিসেবে ইনফর্মেশন টেকনোলজি তে নানারকম শিক্ষাদান, সফ্টওয়্যার তৈরি করা, মানচিত্র বানানো, স্কুলগুলির জন্য শিক্ষণ-সহযোগী চার্ট তৈরি করা; এবং থার্ড অরবিট নামে একটি জি.আই.এস প্রশিক্ষণ-কেন্দ্র চালানো, জিআইএস ম্যাপ তৈরি করা ইত্যাদি।
অনেক রকমের কাজের সঙ্গে সংযুক্তি অর্পিতাকে নানা ধরণের মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ এনে দেয়। মূল্যবান ও উপভোগ্য এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর চিন্তাশীলতাকেও যেন নানাভাবে জাগিয়ে তোলে। এছাড়া নিজের যাপিত অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা অনেক প্রশ্ন আরও অনুসন্ধানের দাবি করছিল। এই বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা তাঁর সামনে তুলে ধরছিল সমাজের অলিখিত কাঠামোগত বৈষম্যগুলো। একই সময়ে, খুব কাছের মানুষকে কেন্দ্র করে তিনি অনুভব করছিলেন যে মানুষের দক্ষতা মূলধারার সংস্কৃতিতে অলক্ষিতই থেকে যায়। সম্ভবত এই সমস্ত কিছুই তাঁকে মনোবিজ্ঞান, সামাজিক মনোবিজ্ঞান এবং মানসিক স্বাস্থ্য-জগতের কাছাকাছি নিয়ে আসছিল। ২০০৯ সাল থেকে তিনি এই বিষয়ে তাঁর পড়াশোনা শুরু করেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাউন্সেলিং কোর্স, ইন্দিরা গান্ধী ওপেন ইউনিভাসিটি থেকে মনোবিজ্ঞানে এম.এ., কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কুল কাউন্সেলিংয়ে পোস্ট পি.জি. ডিপ্লোমা, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভারসিটি থেকে সাইকোডায়নামিক সাইকলজির কোর্স – ইত্যাদি নানারকম প্রাসঙ্গিক পড়াশোনা করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য, স্টিগমা ও প্রান্তিকতা নিয়ে তাঁর পি.এইচ.ডি.।
তিনি কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে (অন্তরা গ্রাম, হিন্দুস্থান হেলথ পয়েন্ট ইত্যাদি) কনসালটেন্ট সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অর্পিতা ন্যারেটিভ থেরাপিস্ট হিসেবে ব্যাক্তিমানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করার সাথে সাথে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বৃদ্ধাশ্রম, হোম ও নানা জায়গায় ন্যারেটিভ চর্চাকে কাজে লাগিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ও আরও বিভিন্ন বিষয়ের এর ওপর কর্মশালা আয়োজন করে থাকেন। তিনি মূলত তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রযত্নকারীদের সঙ্গে কাজ করেন।
ন্যারেটিভ চর্চার সাথে পরিচিতি তার জীবনে এবং তাঁর কাজে এক নতুন মাত্রা এনে দেয়। তিনি তার যাপিত অভিজ্ঞতায়, তার ব্যক্তিগত ও সেইসাথে কর্ম জীবন থেকে উপলব্ধি করেছেন যে সমাজে বিভিন্ন ধরণের বৈষম্যজনিত যে প্রান্তিকতা তা প্রায়শই কাঠামোয় নিহিত। অর্পিতা তাঁর হৃদয় থেকে ন্যারেটভ চর্চার নীতিগুলিতে বিশ্বাস করেন। মূল্য দেন মানুষের যাপিত অভিজ্ঞতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা জ্ঞানকে যা ক্রমাগত এই কাঠামোগত বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করে চলেছে। একজন অধিকার সচেতন নারী হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন ‘ব্যাক্তিগতই রাজনৈতিক’। আজকের পৃথিবীর আর্থ সামাজিক অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে পিতৃতন্ত্রের নিগ্রহী ভূমিকাকে অর্পিতা মনে করেন নিপীড়ক ক্ষমতার একটি বড় অস্ত্র যা কি না অনেকাংশেই কাঠামোয় নিহিত। নারীবাদী বাংলা সংকলনে তাঁর লেখা প্রবন্ধে তিনি এ বিষয়ে সরব (এবং মুশায়েরা (2017, 2023))।
অর্পিতা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁর লেখা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁর চর্চার বিষয়ের ওপর। সেগুলি মূলত গুণগত পদ্ধতি (qualitative methodology), মানসিক অসুস্থতার কলঙ্কময় অনুভূতি ও ইন্টারসেকশানালিটি (mental health stigma & intersectionality) এবং বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় সম্মুখীন ব্যক্তিদের জীবনের অভিজ্ঞতামূলক বিবরণ জড়িত কেস স্টাডি।
তার কিছু প্রকাশনার কাজের মধ্যে রয়েছে –
‘In Search of a Methodology Beyond A Number’ (2020)
‘Relatedness, Integration and Reality: An Exploration in Counsellor’s Chamber’ (2018)
‘Psychology and Philosophy of Care as a Concept: An exploration with a Feminist Lens’(2019)
‘Beyond the Dominant Concept of Aging’ (2019) ‘My experience with ‘Others’ (2020)’
‘Narrative Conference: Where Sparkling Hopes Dance in Every Corner’ (2020)
‘Exploring moments during Pandemic Days: Disability redefined’ (2022)
‘Wives as Caregivers of Persons having Mental Illness: Structural Stigma and Intersectionality Revisited’ (2023)
বঙ্গভঙ্গ, দেশান্তর এবং খুকু ( চ্যাটার্জি) নামে একটি শিশুর জীবন সংগ্রামের গল্প নিয়ে অর্পিতা 2018 সালের আগস্ট মাসে “শিউলি বেলা” নামে একটি বাংলা বই সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের যাপিত অভিজ্ঞতার মধ্যে লুকানো যে কোনও শৈল্পিক রূপ আমাদের শান্তির পরিসরের গভীরে নিয়ে যেতে পারে।
তিনি মানুষের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি নির্জনতা এবং প্রকৃতিতে থাকতে পছন্দ করেন।
