ন্যারেটিভ প্র্যাকটিস
ন্যারেটিভ প্রাকটিসের দু-চার কথা
ন্যারেটিভ শব্দটির বাংলা মানে আখ্যান, উপাখ্যান, গল্প বা কাহিনী। এখানে যা কোনও একটি ঘটনা বা ধারাবাহিক সম্পর্কযুক্ত একাধিক ঘটনার মুহূর্তগুলির বর্ণনা।
আমাদের যাপিত অভিজ্ঞতায় ছড়িয়ে থাকে নানান গল্প – কিছু আনন্দের, কিছু কষ্টের, কিছু প্রকাশ করে আমাদের মূল্যবোধ, আশা স্বপ্ন আর প্রতিশ্রুতিকে ।কিছু কাহিনী লুকিয়ে থাকে কালের অতলে, কোনোটা আমাদের পছন্দের গল্প কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে যেন, কোনটা আবার অপছন্দের তীব্রতা নিয়ে উপস্থিত। এই কাহিনী নির্ভর চর্চায় গল্প বা কাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক একটি গল্পের জন্ম হয় এক একটি প্রেক্ষাপটে – আর আমাদের যেন জন্মই হয় গল্পের মধ্যে। আমরা আমাদের সাথে গল্পগুলিকে বহন করতে করতে পথ চলি। একজন ব্যাক্তিমানুষ যখন তার জীবনের কোনও পরিস্থিতেতে দাঁড়িয়ে তার চারপাশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন তখন ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং আরও অনেক রকমের বৃহত্তর বিশ্ব থেকে ভেসে আসা গল্পের নানারকমের সুতো তাকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি হয়ে উঠতে পারে শিকলের মতোও । আমাদের অভিজ্ঞতার মধ্যে লুকানো গল্প প্রায়শই সমাজের নিপীড়িত নিয়মের কাঠামোর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধের কথা বলে।
মানসিক স্বাস্থ্যের আঙিনায় যখন একজন মানুষ তাঁর কষ্টের গল্প নিয়ে আসেন, তখন ন্যারেটিভ থেরাপিস্ট ও তিনি তাঁর যাপনের গল্পগুলির মধ্যে নানা রকমের অন্বেষণ করতে করতে চলেন। এ যেন এক যৌথ যাত্রা; বৃহৎ পরিমণ্ডলের সামাজিক নির্মানের মধ্যে গল্প গুলিকে দেখতে দেখতে, ভাঙাগড়ায় চলতে থাকে তাঁর জীবনের স্বমূল্যায়ন- তার নির্ধারণ । তিনিই তাঁর জীবনের নির্ধারক বা এক্সপার্ট। পরিস্থিতির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অনেক মুহূর্ত, তাঁদের দক্ষতা, ক্ষমতা এবং পরিচয় সম্পর্কে ধারণা প্রকাশ করে যা মূলধারায় ছিল অলক্ষিত ।
প্রতিকূলতার সাথে মোকাবিলা করার জন্য মানুষের যাপিত অভিজ্ঞতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে কল্পনা এবং সৃজনশীলতার চর্চা যা মূলস্রোতে প্রায়শই থাকে অলক্ষিত। দৈনন্দিন জীবনের গল্পে সৃজনশীলতার অন্বেষণ এবং রূপকের ব্যবহার ন্যারেটিভ প্র্যাকটিসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । অতীত, এবং বর্তমান থেকে অসংখ্য গল্প উন্মোচিত হতে থাকে আর এই কথোপকথনগুলি ব্যক্তিকে তার স্বপ্ন, আশা, মূল্যবোধ এবং প্রতিশ্রুতির সাথে সংযুক্ত করে, ভবিষ্যতে তাদের পছন্দের জীবনের পথ খুঁজে বের করতে ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে।
১৯৭০-১৯৮০ র দশকে বিকশিত এই চর্চার জনক বলা যায় অস্ট্রেলিয়ান সমাজকর্মী মাইকেল হোয়াইট (29 ডিসেম্বর 1948 – 4 এপ্রিল 2008) এবং নিউজিল্যান্ডের থেরাপিস্ট ডেভিড এপস্টনকে (জন্ম 30 আগস্ট 1944)। আমরা বিশ্বাস করি যে জীবনের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি এই বিশ্বকে একটি কাঙ্খিত জায়গা হিসেবে তৈরি করার খোঁজ এনে দিতে পারে।
