আমাদের পরিচয়

ডাঃ সত্যজিৎ আশ কলকাতা শহরের একজন বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক। ৩৪ বছর ধরে তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে তিনি অসংখ্য মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। এছাড়া মাদক-আসক্তি ও তার  নির্ভরতা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর বহুকালের। ক্যালিফোর্নিয়ার বেটি ফোর্ড সেন্টারে মাদক- নির্ভরতার  চিকিৎসা নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাঃ আশ কলকাতার ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের উদ্যোগে পরিচালিত কে পি গোয়েঙ্কা সেন্টারে মাদক- নির্ভরতার  চিকিৎসা প্রকল্পে অধিকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। মন ফাউন্ডেশনের সম্পাদক ও সভাপতির পদে থাকার পাশাপাশি মন ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘শিশু কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্পে’র দায়িত্বে থেকেছেন প্রায় ১০ বছর।

বছর পাঁচেক আগে তিনি ন্যারেটিভ চর্চার সংস্পর্শে আসেন। একজন ডাক্তার হিসেবে বা মানসিক কর্মী হিসেবে চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে নিজেকে ও অন্যকে দেখার সচেতনার যে গুরুত্ব তা এই চর্চা তাঁকে নতুন করে ভাবিয়েছে। এই চর্চার সঙ্গে পরিচিতি একজন মানুষ হিসেবে এবং একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর  জীবনে অনেক বেশি স্বচ্ছতা নিয়ে এসেছে। তাঁর ব্যাক্তি জীবনের জার্নিটাকে নতুন করে দেখতে সাহায্য করেছে। চেম্বারে বসে মানুষের জীবনের অলক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণের গল্প; ডাক্তার-রোগীর যৌথ যাত্রায় এক নতুন মাত্রা এনেছে। আমাদের জীবনের অনেককিছুই থেকে যায় অলক্ষিত, হয়ত জানা কিন্তু অপ্রদর্শিত ।

লুকিয়ে থাকা জীবনের গল্পে থাকে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা । যার প্রতিফলন সেই মানুষটির জীবনে, তাঁর বর্তমান সমস্যার নিরিখে বড়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। ন্যারেটভ চর্চার একটি  মূল ধারণা ‘মানুষ তাঁর নিজের জীবনের নির্ধারক’। মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীর  শুধুমাত্র সমস্যা সমাধানকারী ও পরামর্শদাতার ভূমিকা র বাইরে ন্যারেটভ চর্চার মূল ধারণা বিশেষত একজন  মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীর  যা কিনা ‘বিকেন্দ্রিক কিন্তু প্রভাবশালী’ (decentered but influential) তাঁর কাজে নতুন মাত্রা এনেছে; এছাড়া ‘মানুষ তাঁর নিজের জীবনের নির্ধারক’ (people are experts of their own life)  তাঁকে নতুন সম্ভাবনার খোঁজ দিয়েছে।